প্রথম দর্শন
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
২০২৩ সালের সম্ভবতঃ ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে ভক্ত তার মায়ের সঙ্গে প্রথমবার কাঁকুরগাছির যোগোদ্যান মঠে যান, দীক্ষাগ্রহণের বিষয়ে কথা বলতে। তার কিছুদিন আগেই (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩) ভক্ত দীর্ঘদিন দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দীক্ষিত হওয়ার। তার মায়ের কাছে সেই ভাবনা জানানোয় মা-ও তাঁর দীর্ঘদিনের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন একই বিষয়ে – তিনিও দীক্ষিত হওয়ার কথা ভাবলেও, নানা পরিস্থিতিতে তা এতদিন নেওয়া হয়ে ওঠে নি। ফলত, দুজনেরই বাসনায়, এবং ভক্তের সহকর্মী-বন্ধু অধ্যাপক অমিতাভ মৈত্রের একান্ত অনুযোগে যোগোদ্যান মঠে গিয়ে পরম পূজনীয় গুরুমহারাজ (স্বামী বিমলাত্মানন্দ) সমীপে দীক্ষিত হওয়ার বিষয়ে কথা বলা হবে, এমন ঠিক হয়েছিল।
রামকৃষ্ণ মিশনের শুরুর কালে দীর্ঘদিন দীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল, নানা স্মৃতিকথা পাঠে এমনই ধারণা হয়। পরবর্তীতে ভক্তসংখ্যা এবং দীক্ষাপ্রার্থীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এখন দীক্ষার প্রক্রিয়াটি ত্রিস্তরীয়। প্রথমদিন মঠ-অফিসে গিয়ে নাম লেখাতে হয়। তখন তাঁরা চার-পাঁচটি বই পড়তে দেন। সেই বইগুলি পড়া হলে দ্বিতীয় আরেকদিন যেতে হয়; সেইদিন মঠের কোনও মহারাজ শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমা ও স্বামীজীর বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করেন দীক্ষাপ্রার্থীকে। যথাযথ উত্তর দিতে পারলে, দীক্ষার তারিখ দেওয়া হয়। তারপর সেই তারিখে গিয়ে দীক্ষাগ্রহণ করতে হয়।
১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ত ভ্যালেন্টাইনের আবির্ভাব দিবস। পাশ্চাত্যে, এবং বেশ কিছু বছর যাবৎ পাশ্চাত্যের অনুকরণে ভারতেও এই দিনটি প্রেমদিবস নামে উদযাপিত হয়। সেই প্রেমের দিবসে খাতায়-কলমে ঠাকুর ও মায়ের শ্রীচরণে আশ্রয় প্রার্থনা করার সুযোগ ঘটেছিল ভক্তের।
মঠের অফিসে নাম লেখানোর কাজকর্ম শেষে একজন সেবক জানালেন, অধ্যক্ষ মহারাজ (গুরুমহারাজ) তাঁর কক্ষে আছেন। প্রণাম করতে যাওয়া যেতে পারে।
অতঃপর ভক্ত ও তার মা গুরুমহারাজের কক্ষে প্রবেশ করলেন। মহারাজ চেয়ারে বসে টেবিলের উপর ঝুঁকে কিছু কাজ করছেন। মহারাজের পিছনে, দেওয়ালে ঠাকুর, মা ও স্বামীজীর বড় ছবি। সন্তানের পিছনে চিরজাগ্রত। ঘরে একজন পরিচারক ছাড়া আর কেউ আছেন কি নেই। প্রণামী রেখে, হাঁটু মুড়ে বসে প্রণাম-অন্তে ভক্তের মা বললেন –
মহারাজ, আপনার কাছে দীক্ষা নেবো, তাই আজ নাম লেখাতে এসেছিলাম।
মহারাজ– আচ্ছা, বেশ।
মা– আমি, আমার ছেলে – দুজনেই দীক্ষা নেবো। (ভক্তকে দেখিয়ে) এ আমার ছেলে।
মহারাজ– বুঝেছি।
(অতঃপর, বিদায় গ্রহণ করে সেইদিনের মতো ফিরে আসা হলো। বিদায় গ্রহণকালে ভক্ত অস্ফুটে একবার "আসছি মহারাজ" বলতে পেরেছিল কি পারেনি, সে স্মৃতি তার স্পষ্ট মনে নেই।)
Comments
Post a Comment